- : হুমায়ুন আহমেদ
- বাল্য নাম: শামসুর রহমান
- জন্ম: ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর
- মৃত্যু: ২০১২ সালের ১৯ জুলাই (নিউইয়র্ক)
- জন্মস্থান: নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে।
- প্রথম উপন্যাস: নন্দিত নরকে (১৯৭০)
- দ্বিতীয় উপন্যাস: শঙ্খনীল কারাগার
- পেশাগত জীবন: সাহিত্য রচনার পাশাপাশি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের একজন অধ্যাপনা করতেন।
পরিবার
- পিতা: ফয়জুর রহমান (পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি শহীদ হন।)
- মাতা: আয়েশা আখতার খাতুন
- অনুজ: মুহম্মদ জাফর ইকবাল (বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক)
- সর্ব কনিষ্ঠ ভ্রাতা: আহসান হাবীব (রম্য সাহিত্যিক ও কার্টুনিস্ট)
- কনিষ্ঠ ভগ্নি: শেফালি (পরিবর্তিত নাম – সুফিয়া)
- জন্মের সময় হুমায়ুন আহমেদের পিতা তার নিজের নামের সাথে মিল রেখে ছেলের নাম রাখেন শামসুর রহমান। পরবর্তীতে তার পিতা নিজেই শামসুর রহমান পরিবর্তন করে তার নাম রাখেন হুমায়ুন আহমেদ।
সংসার জীবন
- প্রথম বিয়ে: ১৯৭৩
- প্রথম স্ত্রী: গুলতেকিন আহমেদ
- সন্তান-সন্তুতি: তিন মেয়ে, দুই ছেলে (তিন মেয়ের নাম – বিপাশা আহমেদ, নোভা, শীলা আহমেদ; ছেলের নাম: নুহাশ আহমেদ, অপর ছেলেটি অকালে মারা যায়)
- পরবর্তীতে ১৯৯০ সালের মাঝামাঝিতে মেয়ে শীলা আহমেদের বান্ধবী নাট্য অভিনেত্রী শাওনের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে। এ নিয়ে তার পরিবারে নানা অশান্তির সৃষ্টি হয়। পারিবারিক অশান্তির অবসানের জন্য হুমায়ুন আহমেদ ২০০৫ সালে তার প্রথম স্ত্রী গুলতেকিনের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ করে। এর কিছুদিনের মধ্যেই তিনি শাওনকে বিয়ে করেন। হুমায়ুন-শাওনের সংসারে তিন সন্তানের জন্ম হয়। তন্মধ্যে প্রথম জন্ম নেয়া কন্যা সন্তানটি মারা যায়। ছেলেদের মধ্যে বড় ছেলে নিষাদ ও ছোট ছেলে নিনিত হুমায়ুন।
শিক্ষা ও কর্মজীবন
- মাধ্যমিক, বগুড়া জিলা স্কুল (১৯৬৫)৷
- উচ্চ মাধ্যমিক, ঢাকা কলেজ (১৯৬৭)৷
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে রসায়ন শাস্ত্রে বিএসসি ও এমএসসি ডিগ্রী লাভ করেন (১৯৭২)।
- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পলিমার রসায়ন বিষয়ে পিএইচডি অর্জন করেন (১৯৮২)।
- কর্মজীবনের শুরুতে হুমায়ুন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপনা করেন।
- পরবর্তীতে তিনি অধ্যাপনা থেকে অব্যাহতি দিয়ে সাহিত্য রচনা, নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণে মনোনিবেশ করেন।
সাহিত্য রচনা
- প্রথম উপন্যাস: নন্দিত নরকে
- ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এই উপন্যাসটি প্রকাশ করা হয়ে ওঠে নি। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালে সাহিত্যিক আহমদ ছফার উদ্যোগে উপন্যাসটি খান ব্রাদার্স কর্তৃক উপন্যাসটি পুস্তক আকারে প্রকাশিত হয়।
- ২০০৯ সাল পর্যন্ত হুমায়ুন আহমেদ ২ শতাধিক গল্পগ্রন্থ ও উপন্যাস প্রকাশ করেছেন।
টিভি নাটক
হুমায়ুন আহমেদ ১৯৮০ সালের দিকে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্য নাটক রচনা করেন। তার উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিক নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে
- বহুব্রীহি
- কোথাও কেউ নেই
- আজ রবিবার
- অয়োময়
- নক্ষত্রের রাত
- এইসব দিনরাত্রি
চলচ্চিত্র নির্মাণ
টিভি নাটক নির্মাণের পাশাপাশি হুমায়ুন আহমেদ বেশকিছু চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেন। ১৯৯০ সালের শুরুর দিকে তিনি দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে পদার্পন করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে তার নির্মিত শ্যামল ছায়া চলচ্চিত্রটি দর্শক মহলে বেশ সাড়া ফেলে। পরবর্তীতে এই চলচ্চিত্রটি অস্কার প্রদর্শনীর জন্য মনোনীত হয়। এছাড়া তার অন্য আরেকটি চলচ্চিত্র আগুনের পরশমনিও আদর্শ হৃদয় আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়।
ব্যক্তিজীবন
স্বাধীনচেতা হুমায়ুন আহমেদ বরাবরই কোলাহল মুক্ত পরিবেশ ভালোবাসতেন। ঢাকার অভিজাত এলাকা ধানমন্ডির ‘দখিন হাওয়া’ –তে বসবাস করতেন। এছাড়া গাজীপুরে নুহাশ পল্লী নামক তার একটি বাগান বাড়ি রয়েছে। রসিকতা প্রিয় হুমায়ুন আহমেদ নীরবে মানুষের প্রকৃতি ও আচরণ পর্যবেক্ষণ করতেন। নোংরা সাহিত্যের রাজনীতিতে থেকে তিনি নিজেকে দুরে রেখেছেন। তিনি ছিলেন একজন নিরহংকারী মানুষ। খ্যাতির চূড়ায় পৌছেও তিনি কখনো খ্যাতির বড়াই করতেন। বরাবরই তিনি নিজেকে আড়ালে রাখতে চেষ্টা করতেন। স্বল্পবাক ও কিছুটা লাজুক প্রকৃতির হলেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত অভিমানী প্রকৃতির মানুষ। তার শখগুলোর অন্যতম একটি শখ হলো ছবি আকা।
পুরস্কার
- বাংলা একাডেমী পুরস্কার ১৯৮১
- শিশু একাডেমী পুরস্কার
- একুশে পদক ১৯৯৪
- জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ কাহিনী ১৯৯৩, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ১৯৯৪, শ্রেষ্ঠ সংলাপ ১৯৯৪)
- লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩)
- মাইকেল মধুসুদন পদক (১৯৮৭)
- বাকশাস পুরস্কার (১৯৮৮)
- হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০)
মৃত্যু
গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১১ বুধবার সকাল ৭ টার ফ্লাইটে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদ। মৃত্যুর সাথে বেশ কিছুদিন লড়াই করে গত ১৯ জুলাই, ২০১২ ই তারিখে অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীদের চোখের জলে ভাসিয়ে তিনি ইহলোকের মায়া ত্যাগ করে না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন।
স্মৃতি
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ আসিফ ইকবাল হুমায়ূন আহমেদে একটি ভিডিও ক্লিপ ইউ টিউবে আপলোড করছেন। এখানকার আলাপচারিতা থেকে জানা যায় একসময় চিকিৎসার খরচ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তাও তৈরি হয়েছিল। এ আসরে স্ত্রী শাওনের গান শুনে অশ্রুসজল হয়ে পড়েন হুমায়ূন।
0 Comments